Logo

মর্গে জায়গা আর নেই, পঁচে যাচ্ছে দেহ— গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৩১
মর্গে জায়গা আর নেই, পঁচে যাচ্ছে দেহ— গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে মর্গে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত পচন ধরছে মরদেহগুলোতে। এমন পরিস্থিতিতে নেপালের চিতাওয়ান জেলায় উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র স্থানে গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিতাওয়ানের স্থানীয় কর্মকর্তারা শনিবার (২৯ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেলার প্রধান কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল জানিয়েছেন, চিতাওয়ান জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব মরদেহের মধ্যে মাত্র চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে স্বজনদের পক্ষ থেকেও এসব মরদেহ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। এর মধ্যে মরদেহগুলোতে দ্রুত পচন ধরতে শুরু করায় সেগুলো গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ বিকাল থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর দেবঘাটের নদীর পাড়ে মরদেহগুলো সমাহিত করা শুরু হবে।

এরআগে সবগুলো মরদেহের ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হবে যেন পরবর্তীতে তাদের শনাক্ত করা যায়।

হিন্দু ধর্মে মরদেহ দাহ করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, পরবর্তীতে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা যেন তাদের প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু দেখতে পান সেজন্য এগুলো এখন সমাহিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

নেপালের পার্লামেন্টের এক সদস্য সিএনএনকে এর আগে বলেছিলেন, বর্তমানে মরদেহ শনাক্ত করা তাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মরদেহগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ এবং এগুলো কাঁদায় চাপা পড়ে বিকৃত হয়ে গেছে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির কান্নাল বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে মরদেহ সংগ্রহের জন্য ফ্রিজার সাহায্য চেয়েছেন তারা। যেন মরদেগুলো সেখানে সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোত ও পানির তোড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পর এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয়শর বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বন্যার ভয়াবহতায় বহু মানুষ প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অনেকে নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা, সংরক্ষণ এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত মরদেহ সমাহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD