Logo

স্কুলের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮ বছরের শিশু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫৬
স্কুলের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮ বছরের শিশু
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মর্মান্তিক এক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা ও তার বাবা। স্কুলের প্রথম দিন নীল রঙের ইউনিফর্ম পরে ক্লাসে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয় শিশুটি। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামিদ মোড়ের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াফা ও তার বাবা নিহত হন। হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ওয়াফাকে নীল স্কুল ইউনিফর্ম পরা হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন স্কুলে যাওয়ার আনন্দে ক্যামেরার দিকে থাম্বস-আপও দেখিয়েছিল সে। কিন্তু কিছু সময় পরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হামলায় পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ির ধ্বংসস্তূপের আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার স্কুলের বই-খাতা ও অন্যান্য সামগ্রী।

ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকে, তাহলে প্রতিদিন কেন শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। গাজায় বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই এবং প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ওয়াফার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মধ্যেও গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কেন বন্ধ হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে জানায়, হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী দাবি করে, নিহত ইউসুফ আকিলা হামাসের অভিজাত নুখবা বাহিনীর একজন কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। তিনি ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছিলেন বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

এদিকে গাজায় চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এরই মধ্যে কয়েকটি স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভবনে পড়াশোনা করছে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াফার মৃত্যুর দিনই গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও কয়েকজন শিশু ও তরুণ নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল সাকিনা স্কুলে গোলাবর্ষণে ৭ বছর বয়সি সাদি ঘালিয়া নিহত হয়।

এ ছাড়া গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় ২৮ বছর বয়সি মোহাম্মদ আতেফ আরাফাত সুক্কার নিহত হন। ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম ও আল-মামুনিয়া স্কুলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১৯ বছর বয়সি হাসান আলি সাকাল্লাহ পরে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ওয়াফার মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও গাজার শিশুদের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: দ্য মিডল ইস্ট আই

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD