Logo

ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০২
ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা গত তিন দশকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে পরোক্ষ ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আনুমানিক ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯০ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৭০০। অর্থাৎ তিন দশকের ব্যবধানে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যার দিক থেকে চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। ১৯৯০ সালে দেশটিতে প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ছিলেন। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৪০ লাখে, যা ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে মোট জনসংখ্যার তুলনায় আক্রান্তের অনুপাত কিছুটা কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের মোট সংখ্যা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নারীদের মধ্যে ১৯৯০ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০। অন্যদিকে পুরুষদের মৃত্যুর সংখ্যা একই সময়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭০০।

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ (সিওপিডি), স্তন ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অ্যাজমা এবং নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা এর বড় ভুক্তভোগী। শিশুদের ক্ষেত্রে নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণকে অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডিএএলওয়াই (প্রতিবন্ধকতা-সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন বছর)।

বিশ্বব্যাপী ২০২৩ সালে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। এর ফলে মারা গেছেন প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের প্রায় অর্ধেকই চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় বসবাস করেন।

বিশেষজ্ঞরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি কমাতে ধূমপানমুক্ত বাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে কার্যকর ও শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: টাইমস নাউ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD