Logo

বাংলাদেশে পাঠানো নারীর বিষয়ে ভারতের আদালতের কঠোর নির্দেশ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:০৭
বাংলাদেশে পাঠানো নারীর বিষয়ে ভারতের আদালতের কঠোর নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা ও দেশটির নাগরিক মমতাজ বেগমকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে আপিলের সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। তাকে খুঁজে বের করে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসাম সরকারকে দুই লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হক হেবিয়াস কর্পাসের মাধ্যমে আবেদন করার পর মামলাটির শুনানি হয়। অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য এ ধরনের আবেদন করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বহিষ্কারসংক্রান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রের ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপের এটি প্রথম ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামের মধ্যাঞ্চলীয় নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গত ৩০ মে মমতাজ বেগমকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে। তবে হাইকোর্ট মনে করেছে, ট্রাইব্যুনাল তার জমা দেওয়া সব প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। এর আগে আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দিয়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুনর্বিবেচনার পর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে মমতাজ নিজেকে ‘বিদেশি’ ঘোষণার আদেশ পান। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ডিভিশন বেঞ্চ গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সদস্য এবং পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিচারকেরা বলেন, মমতাজের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রক্রিয়াটি ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)-এর ‘সরাসরি লঙ্ঘন’।

বিজ্ঞাপন

এসওপি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কারের আগে তার আইনি প্রতিকার পাওয়ার সব সুযোগ নিশ্চিত করার কথা। আদালতের মতে, মমতাজের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই তাকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ থেকে বাধা দিয়েছে।

এ কারণে আসাম সরকারকে মমতাজের স্বামী মুজাম্মেল হককে দুই লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই অর্থ দেওয়ানি আদালতে আরও ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অধিকার সীমিত করবে না।

এদিকে গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনালের আদেশটি ঠিক কখন প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আসামের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রয়োজন হলে আদেশের মতামত কখন লেখা হয়েছিল তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করার কথাও আদেশে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ঘোষিত বিদেশি নাগরিককে হেফাজতে নেওয়ার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানাতে হবে। কাউকে জেলা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আগে তার পরিবারের অন্তত একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মমতাজের মামলা পরিচালনার ধরন নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছেন বিচারকেরা। নথিপত্র পর্যালোচনার পর ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডে ‘আইনের দৃষ্টিতে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

মামলাটিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও পক্ষভুক্ত করেছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো মমতাজ বেগমকে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: দ্য হিন্দু

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD