যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের সীমা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফুয়েল ট্র্যাককারী প্রতিষ্ঠান 'গ্যাসবাডি' এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল রাখা এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেন ও জাহাজের পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামেও ব্যাপকভাবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট দে হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাজারে পরিবহন করা প্রতিটি পণ্য, প্যাকেজ ও খাদ্যসামগ্রীর খরচ বাড়বে। এতে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিস্তারিত পড়ুন জনবাণীর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের লিংকে
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাজার সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। ইউএস-ইরান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৭.৬৩ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডাব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
আমেরিকান জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুদ বিগত পাঁচ বছরের গড় হারের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বিঘ্নিত হওয়া, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা জ্বালানি রপ্তানির ওপর কড়াকড়ি বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের এই আকাশচুম্বী দাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবহারের ব্যয় কমানোর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।








