Logo

আকাশ প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সহায়তা চাইতে কানাডায় জেলেনস্কি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:০৬
আকাশ প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সহায়তা চাইতে কানাডায় জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্যে ইউক্রেনের জন্য সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে কানাডায় পৌঁছেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন সময়ে তিনি এ সফর করছেন, যখন রুশ বিমান হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল ক্রমেই চাপে পড়ছে এবং হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আসন্ন শীতকে সামনে রেখে দেশটির বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ বাড়াতে রাশিয়া বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে শীতকালে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ।

কানাডা সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষায় সহায়তা এবং শীতকালের প্রস্তুতির ওপর। আমরা আলোচনা করব কীভাবে আমাদের সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা যায়, জনগণকে সহায়তা করা যায় এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ইউক্রেনের হাতে নিশ্চিত করা যায়।”

কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ইউক্রেনকে নিজেদের অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রও কিনছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহের নীতি থেকে সরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

জেলেনস্কির সফরসঙ্গী ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, কানাডা ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনকে সুনির্দিষ্ট সহায়তা দিয়ে আসছে। চলমান সফরের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করা।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি। তবে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এর আগে মঙ্গলবার মলদোভা থেকে নরওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় জেলেনস্কিকে বহনকারী উড়োজাহাজের যাত্রা বিলম্বিত হয়। ড্রোন অনুপ্রবেশের কারণে মলদোভার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ড্রোন হামলা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী রোমানিয়া ও মলদোভাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও নিয়মিতভাবে নিজেদের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের খবর জানিয়ে আসছে।

এদিকে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। রাশিয়ার সোচি শহরের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ইউক্রেনের একটি সামুদ্রিক ড্রোনের আঘাতে দুই শিশুসহ ২৮ জন আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে সমুদ্রসৈকতের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আগের রাতে ইউক্রেনের ৪৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। রাশিয়ার ১৩টি অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের আকাশসীমায় এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে এক নারী নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।

অন্যদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়ক আটটি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইয়ামালো-নেনেটস অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার এবং দাগেস্তানের একটি বন্দর রয়েছে। মস্কো, ভোরোনেজ, আস্ত্রাখান ও ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, এসব লক্ষ্যবস্তু পরস্পর থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনের সক্ষমতা ও পরিসর যে বাড়ছে, এসব হামলা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগের দিন ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দেশটির বাহিনী সাইবেরিয়ায় ইউক্রেন থেকে ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ১৪৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসবের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল জেটচালিত ড্রোন।

বিজ্ঞাপন

কিয়েভ অঞ্চলের প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রুশ ড্রোন হামলায় সেখানে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকাতেও অন্তত আরও ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD