Logo

ইইউতে আশ্রয় আবেদনে বেড়েছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২৮
ইইউতে আশ্রয় আবেদনে বেড়েছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সামগ্রিক সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ সদস্যদেশের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েসহ ইইউ+ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। ২০২১ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসায় দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি অভিবাসনের মূল উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর কূটনৈতিক উদ্যোগও আবেদন কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও সম্প্রতি চুক্তি করেছে ইইউ। তিউনিসিয়া ও মৌরিতানিয়াসহ এসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ব্রাসেলস। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে আশ্রয় আবেদনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

ইইউ+ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদনে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে আফগানিস্তানের নাগরিকদের কাছ থেকে। দেশটির প্রায় ৩৯ হাজার নাগরিক আবেদন করেছেন। এরপর রয়েছে ভেনেজুয়েলা ও বাংলাদেশ।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১-এ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশিদের জন্য অবশ্য ইইউর নতুন অভিবাসন নীতির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশের নিচে অথবা যেসব দেশকে ইইউ ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের আবেদন দ্রুত যাচাই এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৫৬ শতাংশই এই দ্রুত প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ২০ হাজার আবেদনও রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা, মিসর ও তুরস্কের নাগরিকদের আবেদনও এই তালিকায় রয়েছে। তুরস্ক ছাড়া এসব দেশের প্রথম ধাপের আবেদন অনুমোদনের হার ৫ শতাংশের নিচে ছিল।

ফ্রান্স-ইতালিতেই বেশি আবেদন

বিজ্ঞাপন

ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৯ হাজার আশ্রয় আবেদন পেয়েছে ফ্রান্স। মোট আবেদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দেশটিতে জমা পড়েছে। এরপর ইতালিতে ৬৬ হাজার, স্পেনে ৫৫ হাজার এবং জার্মানিতে ৫৫ হাজার আবেদন জমা হয়েছে।

এই চার দেশেই ইইউ+ অঞ্চলের মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এসেছে। তবে জনসংখ্যার তুলনায় সবচেয়ে বেশি আবেদন পেয়েছে গ্রিস, যেখানে ২৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

অপেক্ষমাণ মামলাতেও শীর্ষে বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের জুন শেষে ইইউ+ অঞ্চলে প্রথম ধাপের প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এক বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা ৮ শতাংশ কম। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক সব পর্যায়ের মামলা বিবেচনায় নিলে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপের অপেক্ষমাণ মামলায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের আবেদন—প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার। এরপর সিরিয়ার ৭৬ হাজার, কলম্বিয়ার ৬৪ হাজার, পেরুর ৩৮ হাজার এবং বাংলাদেশের প্রায় ৩৬ হাজার আবেদন রয়েছে।

নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি কিছুটা বাড়লেও ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা কমেনি। ফলে মোট প্রক্রিয়াধীন মামলার মধ্যে পুরোনো মামলার অংশ গত বছরের ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশ হয়েছে।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদন বাড়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামগ্রিকভাবে ইইউতে আশ্রয় আবেদন কমলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং বিপুলসংখ্যক অপেক্ষমাণ মামলা ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD