Logo

নির্বাচনের পরেই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:২০
নির্বাচনের পরেই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি মনে করছেন। তার দাবি, ইরান আর বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন হোয়াইট হাউজের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও গড়াতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।

এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একাধিক সময়সীমার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত সেসব সময়সীমার কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ভূগর্ভে গভীরভাবে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের ‘চালাকি’ না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর কঠোর হামলা চালাতে পারে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে ওই অভিযানের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সৌদি আরবেও বাড়ছে উত্তেজনা

বিজ্ঞাপন

ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের তৎপরতাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সতর্কতা জারির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD