অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

কয়েক দিনের কূটনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীন ও ভারতের পক্ষ থেকে শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেও শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে চাননি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়া-কুন। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে চীনা প্রেসিডেন্ট ভারতে যাচ্ছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই।’
বিজ্ঞাপন
গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথম ভারত সফর
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা এবং চীনের কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হন।
সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যেই এবার প্রায় সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরও আগে ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন শি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম মেয়াদে থাকা অবস্থায় প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
‘প্রতিযোগী নয়, অংশীদার’ অবস্থান
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছর নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনও ভারত-চীন সম্পর্কের গতিপথে প্রভাব ফেলেছে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সাম্প্রতিক সময়ে সেগুলোর কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে। ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎসহ কয়েকটি খাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগও আবার বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক ফোরামে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা একমত হন যে, দুই দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার এবং পরস্পরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, সুযোগ।’
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বেইজিং এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদনশিল্প সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের অনুমোদনের আগে চীনা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করছে।
রেকর্ড পর্যায়ে ভারত-চীন বাণিজ্য
বিজ্ঞাপন
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি থাকলেও ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ১৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে ভারত ও চীনের বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও ২৩ শতাংশ বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
শি জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফর তাই শুধু ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সীমান্ত উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে, সেদিক থেকেও সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








