Logo

সৌদির তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩
সৌদির তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের তিন শহর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। সোমবার দিবাগত রাতে চালানো এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ৭টি বাড়িঘর এবং ২টি যানবাহন। সোমবার দিবাগত রাতে এ হামলার পর মঙ্গলবার ভোরের দিকে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু, আলুলাসহ সৌদির বেশ কয়েকটি পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা বিষয়ক অ্যালার্ট জারি করেছে সরকার।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা যে উগ্র ও সহিংস মতবাদে বিশ্বাসী— বেসমারিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা তার প্রমাণ।”

বিবৃতিতে তুরকি আল-মালকি আরও বলেন, “সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট এসব হামলার মোকাবিলা করবে। আমরা যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি আরব, বেসামরিক লোকজন এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে রক্ষা করবো।”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সোমবারের হামলার ব্যাপারে হুথি গোষ্ঠীর তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যে ৭০টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল সৌদি আরব, তার বদলা হিসেবে সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুথি গোষ্ঠী।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।

বিজ্ঞাপন

গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি আরব। হুথি বিদ্রোহীদের তথ্য অনুযায়ী রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি বিমানবাহিনী।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন এবং রাজধানী সানা-কে হুথিদের দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, সৌদির বিমান অভিযানগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সহায়তার ওপরই সীমাবদ্ধ আছে; রাজধানী সানা-সহ হুথিদের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোকে এখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

যেভাবে শুরু ইয়েমেন-সৌদি সংঘাত

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে পরের বছর, ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে নেয়।

রাজধানী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে একই বছর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও মিত্ররা।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে এই প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : আরব নিউজ

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD