Logo

রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: জেলেনস্কিকে ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৪৭
রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: জেলেনস্কিকে ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বেশি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।’

রাশিয়ায় হামলার জন্য ইউক্রেনের সামনে আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে জ্বালানি স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্য না করার পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এসব স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাসে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতেও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। এসব স্থাপনা থেকে অর্জিত অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করে এবং উৎপাদিত জ্বালানি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয় বলে দাবি ইউক্রেনের।

বিজ্ঞাপন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দেশটিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে সরকার। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ০৬ ডলারে উঠেছে। প্রতি লিটারে এর দাম প্রায় ১ দশমিক ৬০ ডলার। এক বছর আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার বা প্রতি লিটারে প্রায় শূন্য দশমিক ৯৮ ডলার।

ডিজেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। জাহাজ, ট্রেন ও ট্রাকে পণ্য পরিবহনে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি করে, যার বোঝা বহন করতে হয় ভোক্তাদের।

বিজ্ঞাপন

রবিবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দায়ী নয়। তার মতে, এর প্রধান কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে ইরান যুদ্ধেরও বড় প্রভাব রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এই সীমা অতিক্রম করে দাম। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার পর্যন্ত ওঠে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD