পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট, পেট্রোলের দাম হাজার রুপি হওয়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে। দেশটিতে ইতোমধ্যে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিলে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১ হাজার পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
বিজ্ঞাপন
তবে ১ হাজার রুপি কোনো বর্তমান মূল্য নয়। এটি সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে দেওয়া একটি সতর্কবার্তা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ৩৮৯.১৪ রুপি। পরে ২৩ সেপ্টেম্বরের জন্য সরকার দাম নির্ধারণ করেছে ৩৯২.০৫ রুপি।
কীভাবে বাড়ল দাম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। পাকিস্তানে ১ মার্চ পেট্রোলের দাম ছিল ২৬৬.১৭ রুপি। ৭ মার্চ তা বেড়ে ৩২১.১৭ রুপিতে দাঁড়ায়। এপ্রিলের শুরুতে দাম আরও বেড়ে ৪৫৮.৪১ রুপিতে পৌঁছায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলে জুনে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম কমে ২৯৯.৫০ রুপিতে নামে। এরপর আবার বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরে তা ৩৮৯ রুপির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান জুলাই থেকে জ্বালানির দাম নির্ধারণে দৈনিক পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালু করে। সেপ্টেম্বরে কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম ৩৭০.৮০ রুপিতে উঠেছিল। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে চলে যায়।
আমদানিনির্ভর হওয়ায় ঝুঁকি বেশি
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো আমদানিনির্ভরতা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান ৫৩.৫ লাখ টন মোটর স্পিরিট বা পেট্রোল আমদানি করেছে।
একই সময়ে স্থানীয় শোধনাগারগুলো থেকে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ২৬.৩ লাখ টন এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলো বিক্রি করেছে প্রায় ৭৬.৮ লাখ টন। আমদানির পরিমাণ বিপণন কোম্পানিগুলোর মোট বিক্রির প্রায় ৬৯.৭ শতাংশের সমান।
তবে এসব তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ভিন্ন পর্যায়ের হওয়ায় আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের সরাসরি শতকরা হিসাব হিসেবে এগুলো দেখা ঠিক নয়। তারপরও পাকিস্তানের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানির ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ সংকটে বাড়ছে চাপ
পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়াচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র দুটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করত।
বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে নৌপথটিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিবহন, বিমা ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার ইতোমধ্যে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ কমিয়েছে, নতুন সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধ করেছে এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও সরকারি নৈশভোজে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের জন্য সীমিত পরিমাণ জ্বালানি ভর্তুকিও চালু করা হয়েছে।
সংকট বাড়লে বাড়বে মূল্যস্ফীতির চাপ
জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। পেট্রোলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ১ হাজার রুপি লিটারের সম্ভাব্য মূল্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
তবে এটি কোনো সরকারি মূল্য ঘোষণা নয়। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হলে সম্ভাব্য চরম পরিস্থিতি বোঝাতেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপথই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ধারণ করবে।
তথ্য সূত্র: এনডিটিভি








