৬৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙতে গিয়ে উত্তাল উজ্জয়িনী

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে ঘটনাস্থলে দ্রুত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উজ্জয়িনীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২৭২টি স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৩৯০ সালের দিকে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ সম্পত্তি শাহী মসজিদের প্রার্থনাকক্ষ, একটি মিনার ও সংলগ্ন অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) মোতায়েন করা হয়। ইন্দোরের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জনস্বার্থ ও যানজট নিরসনের যুক্তি দিয়ে উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশনের নোটিশের বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ করেছিল। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট শুনানির দিন ধার্য ছিল সোমবার।
কংগ্রেস সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি এই ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী স্থান ভাঙার বদলে সড়কের অন্য পাশের জমি অধিগ্রহণ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন বারবার মসজিদটি ঘিরে রেখে উসকানিমূলক বার্তা দিচ্ছে।
উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশনের চেয়ারপারসন কলাবতী যাদব জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলাকে সামনে রেখে শহরে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে। ১২ বছর পরপর শিপ্রা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত এই বড় ধর্মীয় সমাবেশে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাদের চলাচল সহজ করতে প্রায় ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করাও সেই প্রস্তুতির অংশ বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








