Logo

বন্যা ও বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত, চার রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৩৩
বন্যা ও বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত, চার রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশসহ পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশে ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসল ও যোগাযোগব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

হিন্দুস্তান টাইমসের ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে উত্তরপ্রদেশে ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ হয়েছে। একই সময়ে ৪৬ জন আহত এবং এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে গড়ে ৯৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে ওই সময়ের স্বাভাবিক গড় ছিল ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার। রাজ্যের ৭৫ জেলার মধ্যে ৫৬টিতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অতিবৃষ্টিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে রবিশস্যের বীজ বপনও পিছিয়ে যেতে পারে বলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওড়িশা

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে ওড়িশাও। রাজ্যের ১০টি জেলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বৃষ্টিতে ৭২১টি ঘর আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার কয়েকটি জেলা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রাজ্যের নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মহানদী অববাহিকায় পানি প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি উত্তর ওড়িশার কয়েকটি নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিহার

নেপাল ও এর পার্শ্ববর্তী অববাহিকা এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিহারেও। ভাল্মীকিনগর ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ার কারণে গণ্ডক নদীর পানি বেড়ে পশ্চিম চম্পারণের বিভিন্ন এলাকায় প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গণ্ডকের পানি বাড়ায় পশ্চিম চম্পারণের দুই হাজারের বেশি গ্রামবাসীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীতীরবর্তী স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছত্তীশগড়

ভারী বৃষ্টিতে ছত্তীশগড়ের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং আটটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যেই শুক্রবার কোণ্ডাগাঁও জেলায় জলমগ্ন ধানক্ষেতে মাছ ধরতে গিয়ে নালায় পড়ে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ডুবে মারা যান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, বিহার ও ছত্তীশগড়ে টানা বর্ষণে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি ও যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD