শান্তিতে নোবেল পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? জোর আলোচনা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের পাওয়ার সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে পুরস্কার নির্ধারণে তাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক চাপ ও পরিস্থিতি নোবেল কমিটির বিবেচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাদের ধারণা।
বিজ্ঞাপন
গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। পুরস্কার পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মাচাদো নিজের নোবেল মেডেল ট্রাম্পকে উপহার দেন। এবারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গত বছরের এই ঘটনাও কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো মনে করেন, নোবেল কমিটি এবার এমন প্রার্থী বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে সক্ষম।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘিরে গত বছরের ঘটনাগুলো; বিশেষ করে ট্রাম্পের হাতে মাচাদোর নোবেল তুলে দেওয়ার বিষয়টি কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জেরলো আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না, সেটিও কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হতে পারে। তার ভাষায়, পুরস্কারটি বিজয়ীর জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনক হবে, নাকি ক্ষতির কারণ হবে—সেটিও তারা বিচার করতে পারেন।
আলোচনায় পোপ লিও, আইসিসি ও আইসিজে
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজের নাম আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ৯ অক্টোবর ঘোষণা করার কথা।
বিজ্ঞাপন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করায় ট্রাম্পের সঙ্গে পোপ লিওর প্রকাশ্য মতপার্থক্যও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তাকে ‘দুর্বল’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। এর পরও পোপ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কথা বলে আসছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি, সংলাপের মাধ্যমে সংঘাত নিরসন, অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং শান্তির পক্ষে তার অবস্থান—এসব কারণে পোপ লিওর নাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ তাকে শুধু ধর্মীয় নেতা নয়, বিশ্বপর্যায়ের একজন চিন্তাবিদ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীরে দখলনীতি নিয়ে সমালোচনার কারণে ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
‘নিরাপদ’ কোনো প্রার্থীও হতে পারেন
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের ঘটনাগুলোর পর নোবেল কমিটি চাইলে তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত কোনো প্রার্থীও বেছে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সুদানের গৃহযুদ্ধের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস কিংবা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের নিয়ে কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মতো সংগঠনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসবিদ ওয়াইভিন্দ স্টেনারসেনের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্য তাদের ওপর একটি চাপ রয়েছে। বর্তমান জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে উদারনৈতিক গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের সুরক্ষায় যারা কাজ করছেন, তাদের নোবেল শান্তিতে পুরস্কৃত করার সময় এখন।’
ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে আইসিসিকে পুরস্কৃত করা হলে তা একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে আইসিজেকে সম্মানিত করলে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান প্রকাশ পেতে পারে।
চলতি বছর কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে জেরলো তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনাকে ‘quite low’ বা বেশ কম বলে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে গত বছরের ঘটনাগুলো নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাসহ অনেককেই বিস্মিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘শক্তি দিয়ে দুনিয়া চালানো যায় না। আমরা নির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধ নিয়ে বেঁচে থাকি। গায়ের জোর থাকলেই কেউ সঠিক হয়ে যায় না।’
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলবে ৯ অক্টোবর। তার আগে ট্রাম্পসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।








