বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে এক হাজারের বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের জন্য এ অভিযান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ, মাত্র এক মাস আগে লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল সরকারি বাহিনী।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুতিদের কামান ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, প্রতিরক্ষা স্থাপনা, যাতায়াত ও রসদ সরবরাহের পথ, সরবরাহ লাইন, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং অতিরিক্ত সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
পরে সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী। তবে হুতি-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম এর আগে ওই এলাকায় সরকারি বাহিনী কোনো ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে বলে অস্বীকার করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে সরকারি বাহিনীর হামলায় হুতিদের অগ্রযাত্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো প্রভাব পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না। রোববার হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজকে কার্যত ঘিরে ফেলার পাশাপাশি শহরটির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজধানী এডেনের প্রধান সরবরাহ পথও বিচ্ছিন্ন করেছে।
তাইজ প্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক দিনেই ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। সংঘাতের দুই পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। এর আগে শুক্রবারের সংঘর্ষে ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছিল এএফপি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: সিবিএস নিউজ








