বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতারা আটক

নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA bloc) বিক্ষোভ মিছিল আটকে দিলে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে বিরোধী জোট। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ব্যারিকেডের ওপর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
এদিন পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা। প্রায় ১৪০ জন বিরোধী এমপি এতে অংশ নেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মিছিলটি কেন্দ্রীয় দিল্লির নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই একাধিক স্তরের ব্যারিকেড এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নেতা ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন। রাহুলের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকাও দেখা যায়। এ সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্য বিরোধী নেতারাও ব্যারিকেডের ওপর ওঠেন।
পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ ও ‘সেভ মাই ভোট’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার ছিল।
আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
বিজ্ঞাপন
মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। তাদের পুলিশ বাসে তোলা হয়। পরে রাহুল গান্ধী ও অন্য কয়েকজন নেতা আকাশবাণী ভবনসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন।
বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। রাহুল গান্ধীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কেন এই বিক্ষোভ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের বিরোধ চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং অনুপযুক্ত বা ভুয়া নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসআইআরকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। মঙ্গলবারের মিছিলকে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মামলা
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নোটিশ দিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তে আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তবে আদালত এখন পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। এদিকে ফর্ম-৬ সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আইনগত ফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি; বিরোধীদের দাবিকে কমিশন বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস








