Logo

জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর কারফিউ জারি, নিষিদ্ধ হলো মদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১৭
জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর কারফিউ জারি, নিষিদ্ধ হলো মদ
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের ওকিনাওয়া প্রদেশে এক জাপানি নারী হত্যার অভিযোগের পর সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ ওঠে ২০ বছর বয়সী মার্কিন ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। তার ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ব্যালার্ড ওই নারীর গলায় চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ইয়াগির মৃত্যু হয়। শনিবার ভোরে নির্ধারিত সময়ে ওই নারী হোটেল থেকে চেক-আউট না করায় কর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ব্যালার্ডকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাকে খুঁজে বের করার অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ওকিনাওয়ায় তাদের সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এ সময় সেনাসদস্যদের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া এমন এক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে বা দুর্বল করে দেয়, যা আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। যখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।”

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি হত্যাকাণ্ডটিকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি নিয়ে নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার তাকাইচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত ওকিনাওয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। জাপানে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন।

মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও উদ্বেগ রয়েছে। শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের আচরণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সেখানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ হয়েছিল। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরোনো ক্ষোভ ও উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD