বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে নৌকাডুবি, ১৫ শিশুসহ নিহত ১৩৯ জন

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে এডেন উপসাগরে জিবুতির উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও কমপক্ষে ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশুও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নৌকাটিতে তিন শতাধিক যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ৯ অক্টোবর শুক্রবার ভোরের মধ্যে কোনো একসময় নৌকাটি ডুবে যায়।
জিবুতির উপকূলরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় দুর্ঘটনা থেকে ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে ইয়েমেন হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এ জন্য ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিলেন।
এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উপকূলরক্ষী বাহিনীর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের দলগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কাজ করছে।”
কোইসাক আরও বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সেই বিপদের কথা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়, যার মুখোমুখি হতে হয় অভিবাসীদের—যারা উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে এই অভিবাসন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েন।”
বিজ্ঞাপন
আলেকজান্দ্রে কোইসাক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, জিবুতির সরকারি কর্তৃপক্ষ যাঁদের দাফন করেছে, মৃতের সরকারি হিসাবে কেবল তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও নিজেদের উদ্যোগে অনেকের মরদেহ দাফন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো শনাক্ত ও যাচাই না করা পর্যন্ত তাঁদের সরকারি মৃতের তালিকায় যুক্ত করা হবে না।
অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও যাত্রা অব্যাহত
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি হর্ন অব আফ্রিকা থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর কাছে একটি পরিচিত যাত্রাপথ। প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ কিলোমিটার বা ১২ দশমিক ৪ মাইল। তবে পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার সন্ধানে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে যাত্রা করেন। ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রা থেমে নেই। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা এবং গত মাসে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া সংঘাতও তাঁদের এই যাত্রা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। এসব মানুষের একটি অংশ উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এই পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। এ পরিসংখ্যান ওই অভিবাসনপথের ভয়াবহ ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে।
বিজ্ঞাপন
জিবুতি শুধু অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রা শুরুর স্থান নয়, সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের আশ্রয়স্থলও হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইয়েমেনে সেনাবাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাতের জেরে কয়েক হাজার মানুষ দেশটি ছেড়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে একদিকে উন্নত জীবনের সন্ধানে যাত্রা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকি, অন্যদিকে সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের নিরাপত্তা—দুই ধরনের সংকটই মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে।








