Logo

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা হবে লজ্জাজনক: নেতানিয়াহু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১৬
আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা হবে লজ্জাজনক: নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডানপন্থী সরকার গঠন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন এই নেতা। তাঁর ভাষায়, এমন জোট হবে ‘লজ্জাজনক’।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পশ্চিম জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিক ফল প্রকাশের সময় তিনি এ বক্তব্য দেন।

নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত ফল জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভোট গণনার অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। তবে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে লিকুদ পার্টি এককভাবে প্রায় ২৭টি আসন পেতে পারে বলে দেশটির ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যে ২০২২ সালে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নিজের সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ, রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে নির্মূল করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। ইরানের হুমকি মোকাবিলা করে দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল এবং ইসরায়েল আরও শক্তিশালী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিনকাসের মতে, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠনের জন্য এমন জোট করতে হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর। তবে বিরোধী শিবিরের ভোটাররা নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সমঝোতা মেনে নিতে চাইবেন না বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজের দলের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাব দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, সরকার গঠনের মতো জোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে আনছেন নেতানিয়াহু।

বিশ্লেষক ড্যান পেরির মতে, বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর পরিস্থিতিকে নিজের পক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

ফলে লিকুদ একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে জোটের সমীকরণ ও অন্য দলগুলোর সমর্থনের ওপর।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD