Logo

আমাকেও হয়তো বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে: অমর্ত্য সেন

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৪:৩১
আমাকেও হয়তো বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে: অমর্ত্য সেন
ছবি: সংগৃহীত

আমাকেও হয়তো বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে: অমর্ত্য সেন

বিজ্ঞাপন

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের যে ধরনের হয়রানি চলছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের ধরপাকড়, পশ্চিমবঙ্গের অনেককে বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলাদেশে ‘পুশ’ করা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের দিকে ইঙ্গিত করে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের শেকড় থাকায় তাকেও হয়তো বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সীমান্তে বাংলাভাষীদের ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সে দেশের নাগরিকদের হয়রানি ও ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা পিটিআই লিখেছে, ‘ইন্ডিয়া’স ইয়ুথ: সোশ্যাল অপরচুনিটিজ দে শুড হ্যাভ’ থিমের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় ৯১ বছর বয়সী অমর্ত্য মজা করে এ কথা বলছিলেন।

“খবরের কাগজে দেখেছি বাংলায় কথা বলায় একজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমাকে খানিকটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

“সিদ্ধান্ত নিলাম, তাহলে ফরাসী ভাষায় কথা বলবো, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি ফরাসী জানিই না,” স্বভাবসুলভ রসিকতার ঢঙে বলেন দুই বাংলাতেই ব্যাপক জনপ্রিয় এ অর্থনীতিবিদ।

বিজ্ঞাপন

“একটা সম্ভাবনা আছে যে আমাকেও হয়তো বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে, কারণ ঢাকায় আমার পূর্বপুরুষের বাড়ি রয়েছে। এটা নিয়ে আমার খুব যে বেশি আপত্তি আছে তাও নয়,” বলেন পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে জন্ম নেওয়া অমর্ত্য সেন।

পরে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের হয়রানির খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতীয় সভ্যতার বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাঙালি, পাঞ্জাবিসহ প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক পরিচয় উদ্‌যাপনের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

“বাংলার (পশ্চিমবাংলা) লোকজন বা বাংলাভাষী লোকজন পেশাগতভাবে বাধার মুখে পড়ছেন, অসম্মানিত হচ্ছেন। বাঙালি সংস্কৃতি ও সভ্যতাই সবার সেরা- এমন দাবি করবো না, তারপরও আমাদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাসে জোর দিতে হবে। বাঙালি সংস্কৃতিকে সম্মান করতে হবে। যদি না হয়, তাহলে প্রতিবাদ জরুরি,” বলেছেন অমর্ত্য সেন।

বিজ্ঞাপন

আগে মাঝেমধ্যে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তা বড় আকারে শুরু করে ভারত।

ওই হামলার পর দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী কথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ধরতে ধরপাকড় ও অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ এপ্রিল ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ ও সুরাট শহরে নারী ও শিশুসহ এক হাজার ২৪ জন বাংলাদেশিকে আটকের তথ্য দেয় সেখানকার রাজ্য পুলিশ।

তারপর থেকেই অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে মানুষকে ঠেলে পাঠানো শুরু করে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

‘অবৈধ অভিবাসী’ সন্দেহে বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেপ্তার বাংলা ভাষাভাষিদের বিমানে করে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর তাদেরকে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিএসএফের হাতে। আর বিএসএফ সময় ও সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে তাদের।

বাংলাভাষীদের হয়রানির শিকার হওয়ার খবর ভারতের সংবাদমাধ্যম ছাড়াও বিবিসি ও নিউ ইয়র্ক টাইমস এর মতো সংবাদমাধ্যমে আসে।

এসএ/

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD