Logo

প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৯:০০
প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক না হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাচ্ছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতায় পড়েছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই পাসপোর্ট হস্তান্তর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। ফলে বারবার তাগাদা দিচ্ছে সৌদি আরব। এমন পরিস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে আগামী মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার স্বার্থেই সরকার এই পাসপোর্ট ইস্যুতে সম্মত হয়েছে। ১৯৭৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করা এসব রোহিঙ্গার জন্য শর্তসাপেক্ষে পাসপোর্ট দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে— পাসপোর্ট পেলেও তারা কখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না; কেবল সৌদি আরবে বৈধভাবে অবস্থানের জন্যই এই পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত পাসপোর্ট বিতরণ শেষ করার আহ্বান জানান। বৈঠকে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সৌদি পক্ষ অগ্রগতির বিস্তারিত জানতে চায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু করার সক্ষমতা রাখলেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতি। নির্ধারিত দিনে কনস্যুলেটে হাজির হচ্ছেন না উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা। অনেককে ফোন বা এসএমএস পাঠিয়েও আনা যাচ্ছে না। ফলে ৬৯ হাজার পাসপোর্ট বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গতি আসছে না।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৪০ জনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। এর মধ্যে কনস্যুলেটে হাজির হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। প্রায় ৩৭ শতাংশ আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হননি। বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে ২১ হাজার ৬৪৮ জনের, আর হস্তান্তর করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭৪টি পাসপোর্ট। প্রিন্টের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০ হাজারের বেশি পাসপোর্ট।

সাত মাসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিপরীতে ১০ হাজারেরও বেশি আবেদনকারী অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় বহু আবেদনকারীর এনরোলমেন্টও সম্পন্ন করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাসপোর্ট নিতে অনীহার পেছনে রয়েছে আর্থিক আশঙ্কা। অনেক রোহিঙ্গা মনে করছেন, পাসপোর্ট গ্রহণের পর সৌদি সরকার তাদের ওপর মাসিক ‘লেভি’ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করতে পারে। আবার কেউ কেউ কাজ হারানোর শঙ্কায় প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছেন। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিভ্রান্তিকর তথ্যও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, উপস্থিতির হার প্রত্যাশার তুলনায় কম। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সৌদি রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন, পাসপোর্ট ইস্যুতে অগ্রগতি থাকলেও আবেদনকারীদের অংশগ্রহণ কম হওয়ায় কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদান শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়; এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শ্রমবাজার নীতি এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত। উচ্চ অনুপস্থিতি, তথ্য যাচাইয়ের জটিলতা ও আবেদনকারীদের দ্বিধা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সব দিক বিবেচনায়, সৌদি সরকারের ক্রমাগত তাগাদার মুখে নির্ধারিত সময়ের বাইরে গিয়ে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছে বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম শেষ করতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD