নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর বাংলাদেশে

গণ–অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৭ মাস পর আয়োজিত এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন এবং অংশগ্রহণমূলক ভোটের সম্ভাবনা।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এ নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হতে পারে।
তরুণদের প্রত্যাশা নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের বিশ্লেষণে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণ ভোটারদের প্রধান দাবি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং ভীতিহীন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সরকারের বিদায়ের পর বাংলাদেশ এখন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ২০০৯ সালের পর এটিকে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে এএফপির গুরুত্বারোপ
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেছে। নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এবার ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে।
একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তরুণদের অনেকেই অতীতে নিজেদের পছন্দমতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে মনে করেন। ফলে এবারের নির্বাচনে তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী।
বিজ্ঞাপন
‘রাজনৈতিক মোড়’ হিসেবে দেখছে নিউ ইয়র্ক টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তরুণদের রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনকে শুধু নিয়মিত ভোট হিসেবে দেখছে না; বরং এটিকে তারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞাপন
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলছে আল জাজিরা
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা নির্বাচনের আগে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত রয়েছেন, যা এ নির্বাচনের ব্যাপ্তি ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন নিয়ে ডয়চে ভেলে
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের দিকে নজর দিয়েছে। আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়।
শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ একটি ইসলামপন্থী শক্তি উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। স্বাধীনতার পর ইসলামপন্থী দলগুলোর এমন দৃশ্যমান উপস্থিতি বিরল—এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে তাদের বিশ্লেষণে।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রসঙ্গে দ্য হিন্দু
ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনেকেই দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করবেন বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী সরকারের ধরন অনেকটাই নির্ভর করছে এই নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয় তার ওপর।
গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় আয়োজিত এ নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।








