Logo

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কেন প্রয়োজন, কি রয়েছে সংবিধানে?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৭:০৩
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কেন প্রয়োজন, কি রয়েছে সংবিধানে?
সংসদ ভবন | ফাইল ছবি

বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নিতে ডাকা হয়েছে তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে দুজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদসংক্রান্ত বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে—টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী আসলে কী এবং কেন তাদের প্রয়োজন হয়?

বিজ্ঞাপন

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত মন্ত্রী হওয়ার জন্য পথ হলো ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়া। তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, আইন বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে যদি সেই ধরনের বিশেষজ্ঞ না থাকে, অথবা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য অতিরিক্ত দক্ষতা প্রয়োজন হয়, তখন বাইরে থেকে যোগ্য ব্যক্তি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরই বলা হয় ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তারা অন্যান্য মন্ত্রীদের মতোই সুবিধা ভোগ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি ‘টেকনোক্র্যাট’ শব্দের উল্লেখ নেই। তবে সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মন্ত্রিসভার অন্তত ৯০ শতাংশ সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হবে। বাকি ১০ শতাংশ সরকারপ্রধান সংসদের বাইরে থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। সাধারণত এই কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় প্রশাসনিক ও কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের।

বিজ্ঞাপন

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদেরও অন্যান্য মন্ত্রীর মতো কিছু আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়—যেমন ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব, এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া। তবে তাদের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তারা সংসদে বক্তব্য রাখতে ও আলোচনায় অংশ নিতে পারলেও কোনো প্রস্তাবে ভোট দিতে পারেন না।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে প্রায় সব সরকারই টেকনোক্র্যাট কোটার সুবিধা ব্যবহার করেছে। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার সেলিনা রহমান ও রিয়াজ রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারেও রিয়াজ রহমানকে পুনরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের পর থেকে টেকনোক্র্যাট কোটার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞ—বামপন্থি রাজনীতিক, আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ এবং স্থপতি—এই কোটায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গঠিত স্বল্পস্থায়ী মন্ত্রিসভাতেও বার্ন বিশেষজ্ঞ ডা. সামন্ত লাল সেন টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর নিয়োগ বিশেষ দক্ষতার মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিগতভাবে সঠিকভাবে পরিচালনার সুযোগ দেয়। বিশেষজ্ঞদের এই ভূমিকা সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবশালী ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD