দ্রব্যমূল্য নিয়ে ‘সাউন্ড বাইট’ নয়, কাজ করে দেখাবো: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফল দেখানোর অঙ্গীকার করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত আছে। ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, পাশাপাশি পাইপলাইনেও সরবরাহ ঠিক আছে।
বিজ্ঞাপন
রমজান এলেই ‘সিন্ডিকেট’ ইস্যু সামনে আসে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কোনো ‘সাউন্ড বাইট’ দেব না। কাজ করেই দেখাতে চাই। বাজার তদারকি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, মাসের শুরুতে একসঙ্গে বেশি কেনাকাটার প্রবণতার কারণে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে খুচরা বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
রপ্তানি খাতে সাম্প্রতিক মন্থরতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি আয় এখনো অত্যন্ত সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল; মোট আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ একটি পণ্য থেকেই আসে। এ পরিস্থিতি কাটাতে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে সরকার।
বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির পরিবর্তনে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি স্বল্পআয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নীতিগত ভুলের সুযোগ খুবই কম। সাম্প্রতিক মন্থর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যৌক্তিক মুনাফার নিশ্চয়তা চান।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।








