দায়িত্ব নেওয়ার পরই ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু

নবগঠিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ইসি। আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে নির্বাচনসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।
এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা। তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের আপত্তির মুখে সে উদ্যোগ থেকে সরে আসে তৎকালীন সরকার।
বিজ্ঞাপন
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। একই দিন বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।
আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। একই বছরের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হয় ২ জুন। অন্যদিকে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে বিস্তারিত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং অতীতের মতোই প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৩৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।








