আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আলী হোসেন ফকির

নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে তিনি দায়িত্বভার নেন। বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে বাগেরহাট সদর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলী হোসেন ফকির। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বিকম (অনার্স), এমকম ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।
বিজ্ঞাপন
কর্মজীবনে তিনি ডিআইজি (পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স) ও ডিআইজি (এসপিবিএন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এ উপ-পুলিশ কমিশনার এবং নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করেছেন। কমান্ড্যান্ট হিসেবে আরআরএফ সিলেট এবং ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা ও ৭ এপিবিএন সিলেটে অধিনায়ক ছিলেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধি হিসেবে কসোভো ও আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেছেন। প্রশিক্ষণ ও সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।
বর্তমানে তিনি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক। এছাড়া খুলনা ক্লাব ও ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য, এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকার সভাপতি এবং বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।
বিজ্ঞাপন
তার সহধর্মিণী প্রফেসর নাসিমা ফেরদৌসী সরকারি তিতুমীর কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে কুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেয়ে বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।
খুলনা তৃতীয় এপিবিএনের অধিনায়ক থাকাকালে ২০২২ সালের নভেম্বরে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে উপ-মহাপরিদর্শক এবং ২০২৫ সালের আগস্টে অতিরিক্ত আইজিপি হন।
বিজ্ঞাপন
সবশেষ আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন মধ্যরাতে মো. ময়নুল ইসলাম নতুন পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান।
পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে বাহারুল আলমকে পুলিশপ্রধান করা হয়। প্রায় এক বছর পর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার নাম আসায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন এবং পদত্যাগের দাবিতে কয়েকদিন আন্দোলনও হয়।








