Logo

ডিজেলের ‘কৃত্রিম সংকট’, বাস ট্রিপ কমানোর আশঙ্কা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ, ২০২৬, ১৬:৫৮
ডিজেলের ‘কৃত্রিম সংকট’, বাস ট্রিপ কমানোর আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে, যদিও সরকারি পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রেশনিং পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম তেল পাওয়া যাওয়ায় গণপরিবহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে লোকাল ও দূরপাল্লার বাস মালিকরা জানিয়েছেন, চাহিদামতো ডিজেল না পেলে ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন, যা সরাসরি যাত্রীদের ওপর প্রভাব ফেলবে।

সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি লোকাল বাসের জন্য দিনে ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাসের জন্য ২০০–২২০ লিটার ডিজেল পাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৬ ও ৭ মার্চ থেকে অধিকাংশ লোকাল বাস মাত্র ২০–২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ৪০–৫০ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পারছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় ছিল।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মহাখালী, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যাত্রীবাহী পরিবহন সংক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোকাল বাস চালকদের অন্তত দুইটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে দৈনিক ৫০–৭০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু পাম্পে গেলেও চাহিদার সামান্য অংশ মেলে, ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দূরপাল্লার বাসের মালিকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি বরাদ্দ কেবল কাগজে রয়েছে। বাস্তবে পাম্প থেকে চাহিদার মাত্র অল্পাংশ তেল পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এক পরিবহন মালিক জানান, তার বাসগুলোতে দৈনিক ৯০–৯৫ লিটার তেল দরকার, কিন্তু সর্বশেষ মাত্র ১০ লিটার পেয়েছেন। ফলে আগামী দিনে ট্রিপ সংখ্যা কমানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। পাম্পকর্মীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বিক্রির কারণে স্টকে তেল শেষ হয়ে গেছে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে তেলবাহী গাড়ি না আসায় সমস্যাটি প্রকট হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের কোনো অভাব নেই। অর্ডারকৃত ১৪টি কার্গোর অধিকাংশ দেশে পৌঁছেছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি ভেসেল আসছে।

বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু বলেছেন, সাময়িক সমস্যা হলেও জনগণ আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রেশনিং কার্যক্রম শুধু স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। দেশের ডিজেলের মজুদ পর্যাপ্ত এবং তেলের কোনো অভাব নেই।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে বাস মালিক ও চালকরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না, যা যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD