Logo

ভাতা আব্দুর রহিমের, বিকাশ মেম্বার-চেয়ারম্যানের: সংসদে অভিযোগ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫৫
ভাতা আব্দুর রহিমের, বিকাশ মেম্বার-চেয়ারম্যানের: সংসদে অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে আনার আহ্বান জানিয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ভাতাভোগীর নামে বরাদ্দ থাকলেও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর হিসেবে অন্য ব্যক্তির নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সংসদ সদস্য বলেন, মাঠপর্যায়ে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে ভাতাভোগীর নাম একজনের হলেও সংশ্লিষ্ট বিকাশ বা নগদ নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য কারও নম্বর। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যেমন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যানদের মোবাইল নম্বর অনেক সময় তালিকায় যুক্ত করা হয়। ফলে ভাতার প্রকৃত অর্থ উপকারভোগীর হাতে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক এলাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সরকারদলীয় না হলে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এর ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক সময় কার্যত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারেন না এবং প্রতীকী অবস্থানে থেকে যান।

বিজ্ঞাপন

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অতীতে যে ত্যাগ ও সংগ্রাম হয়েছে, তার আলোকে এই ধরনের বৈষম্য দূর করতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে—সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।

সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন বলেন, বিষয়টি সেদিনের কার্যতালিকায় না থাকায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে ভবিষ্যতে লিখিত নোটিশ আকারে প্রশ্ন উত্থাপনের আহ্বান জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে বিতরণ প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম ও জটিলতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা বিতরণের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক বা অসহায় মানুষ নিজেরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন না। তখন তারা ছেলে, নাতি বা অন্য কোনো আত্মীয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভাতা গ্রহণ করেন। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখা যেতে পারে।

তবে ভাতার অর্থ যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছায়—এটি নিশ্চিত করতে সরকার আরও কার্যকর ও পরিশীলিত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে আশ্বাস দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ভাতার পরিমাণ হয়তো ৫০০ বা ৭০০ টাকা, কিন্তু অনেক মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যার জন্য বরাদ্দ, সেই মানুষটির কাছেই যেন টাকা পৌঁছায়—সেদিকে সরকার বিশেষভাবে নজর দেবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD