Logo

গাবতলীতে যাত্রী সংকট, ফাঁকা কাউন্টারে ডেকে ডেকে টিকিট বিক্রি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ, ২০২৬, ১৫:৪৪
গাবতলীতে যাত্রী সংকট, ফাঁকা কাউন্টারে ডেকে ডেকে টিকিট বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার থেকেই ঈদযাত্রার আনুষ্ঠানিক চাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকার অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল গাবতলীতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। প্রত্যাশিত ভিড়ের পরিবর্তে সেখানে বিরাজ করছে যাত্রী সংকট, আর যাত্রী খুঁজতে কাউন্টারে বসেই হাঁক-ডাক করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ কাউন্টার ফাঁকা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। আবার কিছু দূরপাল্লার যাত্রী কাউন্টারের সামনে বসে গাড়ির অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন। অতীতে ঈদযাত্রার সময় যেখানে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, সেখানে এবার সহজেই টিকিট মিলছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা। বিশেষ করে ট্রেন এবং পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা সড়কপথের পরিবর্তে এসব মাধ্যম বেশি ব্যবহার করছেন। ফলে গাবতলী টার্মিনালের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সূর্যমুখী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সারওয়ার জানান, টার্মিনালে এখন যাত্রী প্রায় নেই বললেই চলে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এই রুটে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে, আর ঈদের মতো ব্যস্ত সময়েও সেই প্রভাব স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

একই চিত্র তুলে ধরেন দ্রুতি পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাঈদ। তিনি বলেন, যাত্রী সংকটের কারণে অনেক বাসই ছাড়তে পারছে না, অধিকাংশ গাড়ির আসন ফাঁকা থাকছে। ঢাকার যানজটও একটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাবতলীতে পৌঁছাতে যেখানে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে অনেকেই যাত্রাবাড়ী হয়ে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

টার্মিনালের আরেক কাউন্টার মাস্টার কাইয়ুম জানান, যাত্রী যেমন কম, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে গাড়ি সংকটও রয়েছে। তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বাসগুলোকে। ফলে যাত্রী থাকলেও অনেক সময় টিকিট দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক বলা হলেও বাস্তবে তা পেতে সময় লাগছে, যা পরিবহন খাতে প্রভাব ফেলছে।

তবে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। বরিশালগামী রাকিব বলেন, কাউন্টারে এসেই সহজে টিকিট পেয়েছেন, কোনো ঝামেলা হয়নি।

দিনাজপুরগামী আসাদুলও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আগে ঈদের সময় টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এখন সহজেই মিলছে। তবে তিনি ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগও তোলেন।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরাগামী যাত্রী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকার ভাড়া ঈদ উপলক্ষে দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। যদিও পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কিছু নেওয়া হচ্ছে না; বরং যাওয়া-আসার যাত্রী ভারসাম্য রাখতে এ ধরনের হিসাব করা হয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। পুলিশ, র‍্যাব ও ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি বিআরটিএর তদারকি দল কাজ করছে। যাত্রীদের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলেই জরিমানা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রার শুরুতেই গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিড়ের বদলে দেখা দিয়েছে যাত্রী সংকট। তবে সামনে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীরা যেমন সহজে টিকিট পাচ্ছেন, তেমনি ভাড়া ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD