উত্তরায় ছিনতাইকারীর টানে তরুণীর মৃত্যু: মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই

রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, পাশাপাশি ঘটনার অনেক দিকই স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার পর শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, একটি প্রাইভেটকার থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত এ ধরনের গাড়িতে একাধিক ব্যক্তি থাকে—সে বিবেচনায় অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের জন্য রিকশাচালককে খোঁজা হচ্ছে। তাকে পাওয়া গেলে তদন্তে অগ্রগতি হবে বলে আশা পুলিশের।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশে মেট্রো স্টেশনের নিচে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ব্যবহৃত গাড়ি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে রিকশায় থাকা ২১ বছর বয়সী মুক্তা আক্তারের ব্যাগ টান দেয় প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারীরা। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তিনটি হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনার বাসিন্দা মুক্তার প্রায় দুই বছর আগে পোশাককর্মী লিমন হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। তারা দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার সময় মুক্তা ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে রিকশায় বের হয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ময়নাতদন্তের জন্য মুক্তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শুক্রবার তুরাগ থানায় মামলা দায়ের করেন তার স্বামী লিমন হোসেন। পরে তিনি আবার হাসপাতালে ফিরে যান।
শুক্রবার বিকেলে লিমন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরগুনায় নিয়ে যাওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলটি দুই থানার সীমানায় হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তুরাগ থানা মামলা গ্রহণ করেছে।








