কড়া নিরাপত্তায় জাতীয় ঈদগাহ, প্রধান জামাতে মুসল্লিদের ঢল

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজের মধ্যেই রাজধানীতে জমে উঠেছে প্রধান জামাতকে ঘিরে প্রস্তুতি। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায় হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষকে।
বিজ্ঞাপন
সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই ঈদগাহের আশপাশ এলাকা ভরে ওঠে মুসল্লিদের পদচারণায়। সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে লাইন ধরে প্রবেশ করছেন অনেকে। একইভাবে মৎস্য ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাতেও মুসল্লিদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে মুসল্লিদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার থাকায় শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে ভেতরে ঢুকছেন সবাই।
বিজ্ঞাপন
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খিলগাঁও থেকে আসা এক মুসল্লি জানান, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের জামাতেই আনন্দের পূর্ণতা আসে। হাজারো মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুভূতি তাকে ভোরেই ঈদগাহে টেনে এনেছে।
অন্যদিকে, পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়েও ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখা গেছে অনেককে। এক অভিভাবক জানান, ছোটবেলার স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে তিনি সন্তানকে নিয়ে প্রতি বছর ঈদগাহে আসেন। তার ভাষায়, শৈশবের সেই ঈদের অনুভূতি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তার কাছে বিশেষ আনন্দের।
জাতীয় ঈদগাহে এবারের আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মাঠে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারীর জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ৩৩০ জন ভিআইপির জন্য নির্ধারিত আসন প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, জাতীয় ঈদগাহের পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদেও পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত এসব জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর ঈদ উদযাপন।








