দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ কতদিন চলবে? যা জানা গেল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে না পারায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ফলে এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনো বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ এসেছে এবং আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিলের আমদানিসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই আগাম জ্বালানি কিনে মজুদ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুদ ছিল। তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এই মজুদ দ্রুত কমছে।
বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি :
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ৬৫-৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান মজুদের চিত্র— :
ডিজেল: ১.৮৫ লাখ টন (প্রায় ১৪ দিন); অকটেন: প্রায় ১১ হাজার টন (৯ দিন); পেট্রল: ১৬,৬০৫ টন (১১ দিন); ফার্নেস তেল: ৭০,৮৩৩ টন (২৯ দিন); জেট ফুয়েল: ৩৪,৮৭৭ টন (২৩ দিন); কেরোসিন: ৮,৫৭১ টন (৪৬ দিন); মেরিন ফুয়েল: প্রায় ১,৫০০ টন (৪৪ দিন)।
এছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংকটের পেছনে তিন কারণ :
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি কারণে চাপ বাড়ছে—
১. জাহাজ আসতে বিলম্ব। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। ৩. আতঙ্কে অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার মতে, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি সবাইকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত সরবরাহ—এ অবস্থায় আমদানি স্বাভাবিক না হলে এবং অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








