Logo

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ: গৌরব, আত্মত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের দিন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৯:১২
মহান স্বাধীনতা দিবস আজ: গৌরব, আত্মত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের দিন
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, যার ধারাবাহিকতায় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

বিজ্ঞাপন

এবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। রাজধানীর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করে। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার চেতনা আমাদের সাহস ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও একইভাবে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া দিবসটি ঘিরে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন রয়েছে।

দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। হাসপাতাল, কারাগার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যকে ধারণ করে দেশকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD