Logo

১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১৭
১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশ থেকে গত দেড় দশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত শ্বেতপত্র বা সংশ্লিষ্ট কমিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিমাণ অর্থপাচারের হিসাব পাওয়া গেছে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এই হিসাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই বিপুল অর্থপ্রবাহ দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একটি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছে। তবুও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অনিয়ম কমাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জনগণের করের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

অর্থপাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ জোরদার করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে এসব অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে। পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষর এবং এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অর্থপাচারের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকংকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে।

এসব মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পৃথক ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে বলে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD