বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদন কারখানা

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামাল সংকটের কারণে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত ডিএপিএফসিএল-এ শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়।
বিজ্ঞাপন
কারখানার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মজুদ দিয়েই কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে সেই মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড—এই দুটি প্রধান কারখানায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডিএপি কারখানাটি এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে আসছিল। ফলে ওই দুটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিএপি উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে সংকট মোকাবিলায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সরবরাহ না থাকায় সেই মজুদও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এর ফলে কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানিয়েছেন, মার্চের শুরু থেকেই অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখন নতুন করে সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞাপন
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।
দেশের একমাত্র ডিএপি সার উৎপাদনকারী কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে আমদানি নির্ভরতা বাড়তে পারে এবং বাজারে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত অ্যামোনিয়া সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা কঠিন হবে এবং এর প্রভাব সরাসরি কৃষি উৎপাদনে পড়তে পারে।








