Logo

ফুয়েল পাসে বদলেছে রাজধানীর চিত্র, কমেছে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:১৯
ফুয়েল পাসে বদলেছে রাজধানীর চিত্র, কমেছে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে নতুন ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার কারণে। যেখানে আগে একটি ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানে এখন অপেক্ষার সময় নেমে এসেছে প্রায় এক ঘণ্টায়।

বিজ্ঞাপন

রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে জ্বালানি নিতে শাহবাগ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের উদ্দেশে বের হন। কয়েকদিন আগেও একই পাম্পে তেল নিতে রাতভর অপেক্ষা করতে হলেও এবার তিনি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বিএসএমএমইউ) এলাকার কাছে পৌঁছে তিনি সারিতে দাঁড়ান, যেখানে তখন প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি মোটরসাইকেল ছিল। ভোরের নীরব পরিবেশে কেউ মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন, কেউ বসে ছিলেন, আবার কেউ গল্পে মেতে ছিলেন—সবার অপেক্ষা সকাল ৮টা, যখন শুরু হবে ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ।

বিজ্ঞাপন

আতাউর রহমান বলেন, “মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল নিয়ে বাসায় ফিরেছি, আগে যা ছিল কল্পনার বাইরে।”

একদিন আগেও একই পাম্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হতো বলে জানান চালকরা। তখন পুরো এলাকা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানে ভরে যেত।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তেল নেওয়ার আগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে পাম্পে দেখাতে হচ্ছে। এতে পুরো প্রক্রিয়া এখন নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে। এই পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুরসহ নির্বাচিত সাতটি পাম্পে নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য—জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধ করা এবং ভোগান্তি কমিয়ে সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

ধানমন্ডি, শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যেসব পাম্পে ফুয়েল পাস চালু হয়েছে সেখানে ভিড় তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। ফলে অপেক্ষার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ভোর ৬টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বিপরীত পাশের একটি গলিতে শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন এখন আর নেই।

মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল বলেন, “ফুয়েল পাস চালু হওয়ায় এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না, অনেক স্বস্তি এসেছে।”

বিজ্ঞাপন

তবে সবাই সমান সুবিধা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তুহিন নামের এক যুবক জানান, ফুয়েল পাস সম্পর্কে না জানায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি জ্বালানি পাননি। তিনি বলেন, “অনুরোধ করেছি, কিন্তু দেয়নি। খারাপ লেগেছে। তবে নিয়মটা ভালো, সবাই মানলে সুবিধা হবে।”

নীলক্ষেত এলাকার একটি পাম্পেও এখনো লাইন দেখা গেছে, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে তা আগের তুলনায় অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুয়েল পাস ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ধাপ। শুরুতে সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভোগান্তি থাকলেও সঠিক বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি অনেকটাই কমে যাবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD