Logo

উত্তপ্ত সংসদে বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১৮
উত্তপ্ত সংসদে বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা বাতিলকে ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরব হন। এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬’ এবং ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাব উত্থাপনের পরই বিরোধী দল ও তাদের মিত্ররা আপত্তি জানিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

বিতর্কের মূল বিষয় ছিল— বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য পূর্বনির্ধারিত বয়সসীমা তুলে দেওয়া। সরকার পক্ষের যুক্তি ছিল, এতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের কাজে লাগানো সহজ হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল দাবি করে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে হলে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যখন সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল অনেক কম। বর্তমানে গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় বয়সসীমার কড়াকড়ি শিথিল করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সকে প্রধান বিবেচনা করা হয় না। বরং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাই সেখানে অগ্রাধিকার পায়। তাই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির স্বার্থে পেশাদারদের সুযোগ দিতে এই সংশোধন জরুরি।

তবে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ যুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সময় বিরোধীদের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনগুলো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী গভর্নরকে অপসারণ এবং নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। তার আশঙ্কা, বয়সসীমা তুলে দিয়ে আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় আনা হচ্ছে।

বিরোধী দলের এসব অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী পুনরায় বক্তব্য দিয়ে বলেন, সংসদের নিয়মের বাইরে গিয়েও বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ থেকে বিরত থাকার নীতিতে অটল।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান গভর্নরের বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে বলেন, তার কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য সময় দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি ‘প্রুফ অব দ্য পুডিং ইজ ইন দ্য ইটিং’ প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, কোনো ব্যক্তির কার্যকারিতা তার কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়। তাই আগে তার পারফরম্যান্স দেখা উচিত। এরপরই মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই আইন সংশোধনের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না। তার মতে, আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুরুতর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অতীতের একটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইন পরিবর্তনের নজির রয়েছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে শেয়ারবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD