Logo

‘মে দিবস’ উপলক্ষে শ্রমজীবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাণী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৪৮
‘মে দিবস’ উপলক্ষে শ্রমজীবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অবদান ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনা আজও শ্রমিক অধিকারের প্রেরণা হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রাসঙ্গিক।

এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। এই প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমজীবী মানুষ। তাদের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো এবং অর্থনীতির ভিত। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান, যিনি শ্রমিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টিতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ আজও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ে শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পোশাক খাতের উন্নয়নেও সেই সময়ের অবদান উল্লেখযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান সরকারের দায়িত্ব। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মে দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD