শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছিল: স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে। বাংলাদেশে বিগত ১৬ বছর শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছিল। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই দীর্ঘ সময়ে অনেক আত্মত্যাগ করেন, যা তাকে দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় দেশনেত্রী হিসেবে তুলে ধরে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা অগ্রগণ্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন সোভিয়েত সরকার বাংলাদেশের পক্ষে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভেটো দেওয়ার মাধ্যমে বন্ধুত্বের অনন্য নজির স্থাপন করে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধপরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত সরকার এগিয়ে আসে এবং এর ফলে অতি দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দর সচল হয়। মাইন সরানোর এই কাজে এক তরুণ সোভিয়েত নাগরিক প্রাণ হারান। বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার এসব অবদান কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ রপ্তানি, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি, হতাহতদের সংকট এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরমাণু রিঅ্যাকশনজনিত কারণে প্রথমদিকে ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এটি তার মোট উৎপাদনক্ষমতার ৪০% জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করবে।
এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান রুশ রাষ্ট্রদূত। জবাবে স্পিকার বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ পুনর্গঠন, নবায়ন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময় জোরদারের আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে রুশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








