ধাপে ধাপে মাঠ ছাড়বে সেনাবাহিনী, প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে শুরু হবে চূড়ান্ত প্রত্যাহার কার্যক্রম, যা জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলা ও অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। পরবর্তী ধাপে বিভাগীয় শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো থেকেও সেনা মোতায়েন প্রত্যাহার করা হবে। সবশেষে জুনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর এটাই কোর কমিটির প্রথম বৈঠক। এর আগে এপ্রিল মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তখনকার সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। পরবর্তীতে আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠনের অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আবারও তাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাখা হয়। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সেনাবাহিনীর দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিকবার প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়। এর প্রেক্ষিতেই সর্বশেষ বৈঠকে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাদের জামিনে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিদেশ ভ্রমণে অযথা হয়রানি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আগের সরকারের সময় ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, এবং সারা দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাবও বৈঠকে ওঠে। তবে আইজিপির প্রস্তাব সত্ত্বেও বর্তমান পোশাক বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই আপাতত পুলিশের নির্ধারিত ইউনিফর্ম হিসেবে বহাল থাকছে।








