Logo

ঈদযাত্রায় যানজটের ঝুঁকিতে ৯৪ স্পট, বাড়ছে নজরদারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে, ২০২৬, ১১:৪৭
ঈদযাত্রায় যানজটের ঝুঁকিতে ৯৪ স্পট, বাড়ছে নজরদারি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ঈদের আগে ও পরে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি, মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঈদ প্রস্তুতি সংক্রান্ত সভার কার্যপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রয়েছে ৭টি স্পট, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২৫টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৭টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৫টি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৮টি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১টি স্পট।

সোমবার (১১ মে) ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার এবং অনিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এবার ঈদযাত্রায় বৃষ্টিপাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বৃষ্টি হলে যানজট বৃদ্ধি পায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

মন্ত্রী জানান, গত ঈদে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল পোশাকশ্রমিকদের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে। বিজিএমইএর সঙ্গে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ফলে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে একই দিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে বাস কাউন্টারে না গিয়ে সরাসরি সড়কে নেমে যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করায় তীব্র যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এবারও শিল্পকারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকরের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে বা ওপর কোনোভাবেই পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফেরি পারাপারে শৃঙ্খলা আনতে নতুন ব্যবস্থার কথাও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ফেরিতে বাস ওঠানোর আগে যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া ফেরিতে ওঠার আগে ব্যারিকেড বসানো হবে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে। ফেরির পন্টুন এলাকাতেও বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে বিশেষ মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ১৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ঈদের আগে ও পরে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হবে। বিআরটিসি বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালাবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্টও করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেল এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD