Logo

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন, ২০২৬, ১৪:৩৬
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

হাকান ফিদান জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর ও কার্যকর করতে উভয় দেশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, তা বিশ্ববাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ। এই সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে তুরস্ক সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তনের পক্ষেও দেশটি কাজ করে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত এখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুধু ওই অঞ্চল নয়, বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ইতিবাচক। এই সংলাপ স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল এবং যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আলোচনা। এ লক্ষ্যে তুরস্ক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকেও তুরস্ক সমর্থন করছে। তবে মাঝে মাঝে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে— এমন পদক্ষেপ সংশ্লিষ্টদের এড়িয়ে চলা উচিত।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে এবং গাজায় চলমান সহিংসতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি জোরদারে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন

সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD