দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরে নিজের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশেষ করে তিনি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অতীতের একটি নজির তুলে ধরে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশে ফেরার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে তার নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত কাজের ফলাফল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন, প্রায় চার দশক আগে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
খলিলুর রহমান জানান, সেই সময় তিনি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলে কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে তিনি একযোগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছিলেন। তার মতে, সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক সীমিত ছিল, তবুও দায়িত্ব পালনে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাজ পরিচালনা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। ইন্টারনেট, ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকায় একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন আরও কার্যকরভাবে সম্ভব।
দুটি পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিলেও তার বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিও আগে নিজ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি জার্মানির গ্রিন পার্টির একজন নেতা ছিলেন এবং দলটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কারণে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে। অর্থাৎ সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রিত্ব ছাড়াটা বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে একজন বাংলাদেশির নির্বাচিত হওয়া দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় খলিলুর রহমান কী ভূমিকা রাখবেন, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ পদে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি—দুই দায়িত্বই পালনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।








