ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান বলে নিজেই ভাঙলেন ডিএমপি কমিশনার

ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য নেই এবং সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সবাইকে একই নিয়ম মানতে হবে—এমন বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের গাড়িবহরের চলাচল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সাধারণ যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকা একটি ক্রসিং অতিক্রম করতে তার গাড়িবহরের জন্য সাময়িকভাবে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং পুলিশ সদস্যরাও এর বাইরে নন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কিংবা বেসরকারি পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা হয় না।
বিজ্ঞাপন
তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর তার গাড়িবহরের চলাচল নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় কমিশনারের বহর সাধারণ যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকা একটি ক্রসিং ব্যবহার করে।
জানা যায়, মিন্টো রোডের ওই অংশে বর্তমানে একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ কারণে সাধারণ যানবাহনকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে মগবাজারের দিকে গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। সংশ্লিষ্ট ক্রসিংয়ে ত্রিভুজাকৃতির কোন ও দড়ি দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং নিয়মিতভাবে সেটি বন্ধ রাখা হয়।

তবে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে কমিশনারের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছানোর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দড়ির প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দিতে দেখা যায়। একই সময়ে দুই পাশের যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন জানান, গাড়িবহরটি ক্রসিং অতিক্রম করার পর আবারও আগের অবস্থায় প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করা হয় এবং সাধারণ যানবাহনের জন্য পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান—এই বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাটির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
বিজ্ঞাপন
নিয়মিত ওই সড়ক ব্যবহারকারী মোটরসাইকেল চালক মেহেদি হাসান বলেন, কয়েক মাস আগে থেকে মিন্টো রোডের ওই অংশে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ফলে সাধারণ চালকদের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে ঘুরে যেতে হয়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িবহরকে ওই বন্ধ ক্রসিং ব্যবহার করতে দেখা যাওয়ায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আরেক মোটরসাইকেল আরোহী আলামিনের মতে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে পারে, তবে জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা পথ ব্যবহার এবং তার জন্য সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ধরনের বার্তা দেয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের ক্ষেত্রেও অযথা সড়ক বন্ধ রাখা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ডিএমপি কমিশনারের গাড়িবহরের চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা নতুন করে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সমতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমতার বার্তা আরও শক্তিশালী করতে হলে বাস্তব ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা জরুরি।








