Logo

আবারও আলোচনায় বেনজীরের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ
১৫ জুন, ২০২৬, ১৯:১৪
আবারও আলোচনায় বেনজীরের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত তার আলোচিত ডুপ্লেক্স বাড়ি। একসময় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা এই প্রাসাদোপম বাড়িটি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লন্ডন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গন্তব্যে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে পরিচালিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই তার সম্পদ, বিশেষ করে রূপগঞ্জের আলোচিত ডুপ্লেক্স বাড়িটি নিয়ে নতুন করে জনমনে আলোচনা শুরু হয়।

পূর্বাচলের দক্ষিণবাগ এলাকার গুতিয়াব মৌজায় ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে পরিচিত এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি প্রায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত। ২০২২ সালের দিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। পরবর্তীতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠার পর আদালতের নির্দেশে বাড়িসহ তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা শতাধিক জমির দলিল, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার এবং বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। ওই সম্পদের তালিকায় রূপগঞ্জের এই ডুপ্লেক্স বাড়িটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটির প্রধান প্রবেশপথগুলো সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বাড়ির অভ্যন্তরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী আগের অবস্থাতেই সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বাইরের বাগান ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছপালার পরিচর্যা আগের তুলনায় কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় বেনজীর আহমেদ এই বাড়িতে এলে পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তার আওতায় চলে যেত। নিরাপত্তাকর্মী, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণির মানুষের উপস্থিতিতে আশপাশের পরিবেশ বদলে যেত। সাধারণ মানুষের চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়ত। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সম্পত্তি জব্দ হওয়ার পর বাড়িটি অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসার পর বাড়িটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ আবারও বেড়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে বাড়িটি এক নজর দেখতে আসছেন। স্থানীয় বাজার ও চায়ের দোকানগুলোতেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা।

বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বাড়ির সম্পদ সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিটি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এর তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োজিত রয়েছে। বাড়ির ভেতরে থাকা সম্পদ ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD