দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ফেরার কারণ জানালেন ডা. জাহেদ উর রহমান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেও দেশটিতে প্রবেশ না করে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কূটনৈতিক অবস্থানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। ফলে সেখানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তার একটি দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে আগ্রহ দেখালেও তিনি আর সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি। তার মতে, একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধির প্রতি যে ধরনের আচরণ ও সম্মান প্রদর্শন প্রত্যাশিত, সেখানে তার ঘাটতি দেখা গেছে। এ কারণেই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, তার এই পদক্ষেপ কোনো ধরনের বৈরী সম্পর্ক বা নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। বরং এর মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব পরিসরেই সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ভারতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পক্ষে সরকার। তবে জাতীয় স্বার্থ, আত্মমর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি বর্তমান সরকারের নয়।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে আলোচনারও জবাব দেন তিনি। ডা. জাহেদ বলেন, তার কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকা এ ঘটনার কারণ নয়।
তিনি জানান, তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার সংযুক্ত ছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই কার্যকর সুবিধা দেয়। ফলে প্রবেশে জটিলতার পেছনে পাসপোর্ট কোনো বিষয় ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করা কোনো বাধ্যবাধকতা নয়; এটি একটি বিশেষ সুবিধা, যা চাইলে ব্যবহার করা যায়। তাই কেউ যদি দাবি করেন যে পাসপোর্টের ধরনই সমস্যার মূল কারণ, তাহলে তা সঠিক নয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তিনি একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ভারতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলে গেলেও তার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটে। তিনি লক্ষ্য করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বারবার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, পুরো সময়জুড়ে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তার পাশে ছিলেন এবং সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি আর ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
তার ভাষ্য, একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেছেন, তার পদমর্যাদার প্রতি প্রয়োজনীয় সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনে ঘাটতি ছিল। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি ভারত সফর বাতিল করে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
দুই দেশের সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে এই ঘটনা সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত। তিনি এটিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর আমে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সহযোগিতা বিষয়ক জোট ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে গত রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সফরের বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে আগেই ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উপদেষ্টার সফর ও বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি জানায়।
তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পর্যায়ে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং প্রথমদিকে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায় থেকে অনুমতির ব্যবস্থা করা হলেও তিনি তা গ্রহণ না করে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন তিনি দেশে ফিরে আসেন।








