সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সব সময় জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হয়। তবে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সব সময় বিরোধিতা করে আসছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়েও কূটনৈতিকভাবে চাপ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পুশ-ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে। একই সময়ে বিএসএফের ৩৬টি পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
বিজ্ঞাপন
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান রোধে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারত সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায়ও বেড়া নির্মাণ পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে আইস (ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন) আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত এক বছরে (জুন ২০২৫–মে ২০২৬) বিজিবি প্রায় ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে। এ সময়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয় এবং ২ হাজার ১৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ৭৪৪টি অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা ও ৯ হাজার ৬৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
তিনি আরও জানান, ১ মে থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ৮ জুন পর্যন্ত এ অভিযানে ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্র মামলায় ২৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জামালপুর-২ আসনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই রোধে ডিএমপি বিশেষ নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করেছে। র্যাব-২ এর আওতায় মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ১১৯টি অভিযান চালিয়ে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন, যা প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি।
তিনি বলেন, বন্দিদের উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ লাভের ৫০ শতাংশ তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সংরক্ষিত আসনের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইট বন্ধে পুলিশ, বিটিআরসি, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরনো আইন বাতিল করে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।








