৫ কাঠার বেশি প্লটে এসটিপি বাধ্যতামূলক: রাজউক চেয়ারম্যান

রাজধানীর পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলাশয় দূষণ রোধে স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লক্ষ্যে নগর উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টায় রাজউকের অডিটোরিয়ামে “নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বাস্তবায়ন” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। এ ছাড়া গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার বিভিন্ন সোসাইটির প্রতিনিধিরা এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
সেমিনারে দেশের ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— সিগমা গ্রুপ অব কোম্পানিজ (সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড), এলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, বায়োটেক ইনোভেশনস লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্রিন বিল্ডিং একাডেমি, ডাইকি অ্যাক্সিস বাংলাদেশ, অ্যাকুমেন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, সেন্টার ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (সেটা), রিসার্চ ইনোভেশন কমার্শিয়ালাইজেশন, ক্লাইমা এনার্জি ইপিসি এবং পিভট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
উপস্থাপনাগুলোতে এসটিপির কার্যকারিতা, পরিবেশগত গুরুত্ব, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন ধরনের ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন মালিকরা নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভবনের নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় এসটিপি-সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল রয়েছে, সেগুলো যথাযথ নিয়ম মেনে স্থাপন করতে হবে। তবে ৫ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের প্লটের ক্ষেত্রে স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোর লেক দূষণ রোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। রাজউক চেয়ারম্যান জানান, গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার লেকগুলোর পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এসব জলাশয়ে টয়লেট ও পয়ঃবর্জ্য প্রবাহ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে এসটিপি স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি লেক বা জলাশয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে পৃথক ভবনের পাশাপাশি লেকভিত্তিক বা অঞ্চলভিত্তিক বৃহৎ স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্দিষ্ট এলাকার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এসটিপি বাস্তবায়ন করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও মতামত উঠে আসে।
রাজউক জানিয়েছে, আধুনিক পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ভবিষ্যতে বিশেষ মেলার আয়োজন করা হবে। ওই মেলায় এসটিপি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে এবং তাদের উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসটিপির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর জলাশয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সেমিনারের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাজউক চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি পরিকল্পিত নগরায়ন এবং টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।








