Logo

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে পাশে থাকবে চীন: শি জিনপিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুন, ২০২৬, ১৮:৪৮
বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে পাশে থাকবে চীন: শি জিনপিং
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শি জিনপিং বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সাময়িক নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

বিজ্ঞাপন

হুমায়ুন কবির বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্রিকসে যোগদান এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থেও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে চীন, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারে।

চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ঝাও লেজি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পানিসম্পদ ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার উল্লেখ করে ঝাও লেজি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

হুমায়ুন কবির জানান, সফরকালে চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ ও অনুদান নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন কমে এলেও চীন বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সফরের মূল্যায়নে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি শুধু একটি সরকারি সফর নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার মতে, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এ সফর দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD